আজ : ০৭:৫৫, সেপ্টেম্বর ২৭ , ২০২১, ১২ আশ্বিন, ১৪২৮
শিরোনাম :

আইসোলেশনের দুর্ভাবনা ও মানবতার মুক্তি


আপডেট:১২:৪৭, অগাস্ট ২৩ , ২০২১
photo
মশাহিদ হোসেইন বেশ ক‘দিন ঘর থেকে বের হইনি। ‘আইসোলেশনে’ ছিলাম। স্বাস্থ্যবিধির জন্য কোথাও বের হওয়া বারণ ছিল। এ সময়টা এক অসহনীয় যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে কেটেছে। তবে ‘ঘরবন্দী’ জীবন এক নতুন অভিজ্ঞতার জন্ম দিয়েছে। আইসোলেশনের দিনগুলোতে জানালা দিয়ে আকাশ দেখা প্রতিদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই সময়ের অনুভূতিগুলো কলমের কালিতে কাগজের জমিনে বিছিয়ে দেয়া সম্ভব নয়। সীমানাবিহীন ভাবনায় হারিয়ে যেতাম জীবনের ফেলে আসা শৈশব-কৈশোরে। জানালার বাইরের দৃশ্য আর মৃদুমন্দ বাতাস শিহরিত করতো আমাকে। সন্ধ্যায় জ্বলে ওঠা রাস্তার সারিবদ্ধ সোডিয়াম বাতি, অনেকটা নির্জন রাস্তা, মাঝে মাঝে মুষলধারার বৃষ্টি, মেঘ-বৃষ্টির মোহনীয় শব্দ আমাকে নিয়ে যেতো অন্য এক ভুবনে। কল্পনার ডানায় ভর করে চলে যেতাম ছেলে বেলার দিনগুলোতে। একটা সময় ছিল অপার আনন্দের। দূরন্ত সে সময়টাতে বৃষ্টির পানিতে ভিজেছি, খেলেছি। শরীর খারাপ হবে বলে মা তখন সাবধান করতেন। অবুঝ মন মানতো না মায়ের বাধা। রোদ-বৃষ্টি কিম্বা ঝড়ের তোয়াক্কা না করে সাথীদের নিয়ে ছুটে যেতাম খেলার মাঠে। একসময় কল্পনার জগত থেকে বাস্তবে ফিরে আসি। শৈশবে নয়, ঘরের কোনে যে বসে আছি কোভিডের বেড়াজালে। সে ভাবনা অনেক কষ্টের। আজ সেদিনের মতো বৃষ্টি হলেও বিধি-নিষেধ ডিঙিয়ে ছুটে চলার অবকাশ নেই। আর সাবধান করে দেয়া বা বকুনি দেয়ার জন্য বেঁচে নেই জন্মধারিনী মা। ‘ঘরবন্দী’ সময়ে একটি চরম বাস্তবতাকে উপলব্দি করেছি। মানুষের অবাধ চলাফেরার স্বাধীনতা যে কত বড় নিয়ামত, আবদ্ধ হওয়াতে তা বুঝতে পেরেছি। যদিও আধুনিক যুগের সকল সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছি। ভার্চুয়ালি ফেইসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম, লিঙ্কড ইন, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ সহ অন্যান্য মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের খবর রাখছি। ঘরে বসে আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব সহ সবার সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করছি। কিন্তু একটা সময় মনটা ব্যাকুল হয়ে খুঁজে প্রাকৃতিক জীবনধারা। মুক্ত অবস্থায় বাইরে যাওয়া, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, সরাসরি কথা বলা আর শপিং করার স্বাধীনতা হারিয়ে নিজেকে খুব অসহায় লাগছিলো। এসময় একটি বিষয়টি আমাকে দারুণভাবে নাড়া দিয়েছে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী যারা কারাবন্দি, নির্যাতিত-নিপীড়িত। তাদের কথা বড় বেশি মনে পড়েছে। তাদের আবেগ-অনুভূতি অর্থাৎ শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা চিন্তা করেছি। যারা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, আমরা কি তাদের জন্য কিছু করছি। জানিনা তারা এই সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে কিভাবে দিন কাটাচ্ছেন। কেমন করে তাদের পরিবার-পরিজন অনিশ্চয়তার মধ্যে দীর্ঘ সময় অতিক্রম করছেন। তাদের ছেলে-মেয়েরা মা-বাবার আদর-স্নেহ থেকে বঞ্চিত। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি শিশু মা-বাবার আদরে বেড়ে উঠবে এটাই স্বাভাবিক, এটা তার অধিকার। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের দায়িত্ব এই অধিকার নিশ্চিত করা। যে শিশুটি এই অধিকার পেতে ব্যর্থ হয় সেই শিশুর চিন্তা-চেতনার বিকাশে বিঘ্ন ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায, এই শিশুরা পূর্ণবয়স্ক হওয়ার পর তাদের উপর অর্পিত সামাজিক ও পারিবারিক দায়িত্ব সঠিকভাবে সম্পাদন করতে অক্ষম হয়। ফলে সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয় এবং বিষয়টি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে অন্তরায় হিসাবে কাজ করে। ‘ঘরবন্দী’ জীবনের অসহায় অবস্থা থেকে এখন আমি মুক্ত। ১০ দিনের বন্দীদশা থেকে মুক্ত হলেও ভাবনার অতল জগত থেকে বেরিয়ে আসতে পারছিনা। বুক ভরে আলো-বাতাসের স্বাদ নিলেও অন্য মানুষের কথা এখন আমার ভাবনায় নাড়া দেয়। জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরলেও সেই ভাবনাগুলো সম্ভবত আমাকে তাড়া করবে অনেক দিন। বিশ্বজুড়ে যে সমস্ত নিরপরাধ মানুষ কারাবন্দি বা নানারকম নির্যাতনের শিকার, তাদের সপক্ষে আমি মানবতাবাদিদের সাথে সুর মিলিয়ে বলতে চাই, তাদের ‘মুক্তি দিন’। নিপরাধ মানুষকে ‘মুক্ত করে দিন’। তারা ফিরে পাক হারানো স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার। জয় হোক মানবতার। লেখক: রাজনীতিবিদ ও কমিউনিটি ব‍্যক্তিত্ব।


সাম্প্রতিক খবর

আন্জুমানে তালিমুল কুরআন যুক্তরাজ্য শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত:

photo আল্লামা আলী আকবর সিদ্দিক (র:) এর অবদান অবিস্মরণীয় বিশেষ প্রতিনিধি: শায়খুল ক্বুররা আল্লামা আলী আকবর সিদ্দীক শায়েখ ভানুগাছী ( র:) প্রতিষ্ঠিত আন্জুমানে তা’লিমুল কুরআন বাংলাদেশ এর যুক্তরাজ্য শাখা কমিটির এক সভা গত ২৫ সেপ্টেম্বর শনিবার পূর্ব লণ্ডনের ভ্যালেন্স রোডের একটি কমিউনিটি হলে অনুষ্ঠিত হয় ।সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল কাদের সালেহ।সংগঠনের

বিস্তারিত

0 Comments

Add new comment